গৃহপরিচারিকা মিলন চন্দ্র দাশের ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এতে সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্রকে আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মামলাটি দায়ের করা হয়।
এরআগে গত বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী পপি মিত্রকে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে মিলনের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে তাদের দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়
এর আগে বুধবার দুপুরে তরকারি পুড়ে যাওয়ার কারণে গৃহকর্মী মিলনকে মারধর করে সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্রের স্ত্রী পপি মিত্র। তার শরীরে গরম কড়াইয়ের ছেক্যাও দেন তিনি।
সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রফিকুল ইসলাম জানান, নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা উকিল চন্দ্রের মেয়ে মিলন চন্দ্র দাশ। গত ৫ বছর যাবত সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্রের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে আসছেন।
গত বুধবার (১৭ জুন) তরকারি পুড়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে অমানুষিক নিযাতন করা হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে গৃহকর্মী মিলনকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার আনা হয়। বিকেলে ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
রাতে গৃহকর্মী মিলনের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। তারা সকালে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় আসেন এবং ভিকটিমের মা মিনতি রানী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও জানান, খুলনায় গৃহকর্মীর ওপর নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও চিত্র সারদেশে আলোচনায় স্থান পায় এবং বিষয়টি দেখে মেয়েটি মা খুলনায় আসার উদ্যোগ নেয়।
তিনি আরও জানান, বুধবার (১৭ জুন) থেকে পুলিশ দম্পত্তি গৃহকর্মী সম্পর্কে আমাদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলতে থাকে। থানায় মামলা হয়েছে। তাদের দু’জনকে দুপুরের মধ্যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বলেন, তারা দু জনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তারা যে এ ধরণের অপরাধ করবে তা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান।
ছবি: সংগৃহীত
ভোলা পৌরসভা এলাকার এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন সকাল ১১টার দিকে ভোলা পৌরসভার উত্তরপাড়া এলাকায় একটি বাসার পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটের পূর্ব পাশের রুমে খাটের ওপর মোছা. সুমাইয়া আক্তার মিতু (২২)-কে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতপূর্বক ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. বশির আহমেদ বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় রুজু করা হয়।
পরে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। গত ১৭ জুন রাত আনুমানিক ১টার দিকে র্যাব-৮-এর সহায়তায় চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত তিন আসামি মো. সোহাগ (২৭), মোছা. কহিনুর বেগম (৫৫) এবং মো. মুলা আক্তার (২৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভোলা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রস্তোম পুর আশ্রয়ন প্রকল্প সংলগ্ন খাল খনন এবং মাটি ভরাট কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ,অধ্যক্ষ এস এম আব্দুল আউয়াল।
পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ এস এম আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘মাননীয় দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হচ্ছে। আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই খাল খনন ও মাটি ভরাট কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘আশ্রয়ন প্রকল্পের সার্বিক নিরাপত্তা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। খাল খননের ফলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা যেমন উন্নত হবে, তেমনি ভরাটকৃত ভূমিতে বাসিন্দাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও বসবাসের পরিবেশ তৈরি হবে।
পরিদর্শন দলের অন্যান্য সদস্য: এই পরিদর্শনকালে মুখ্য সমন্বয়ক ও জেলা প্রশাসকের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন— ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার, ডুমুরিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস
পরিদর্শন শেষে অতিথিবৃন্দ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় উপকারভোগী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় করেন। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সামনে তুলে ধরেন।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডুমুরিয়া আশ্রয়ন এলাকার দৃশ্যপট অনেকটাই বদলে যাবে এবং বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান আরও বেগবান হবে।
ছবি: সংগৃহীত
পিরোজপুরে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির উদ্যোগে একটি ‘অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে গত বুধবার (১৭ জুন) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নারী ও শিশু সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, “নারীর প্রতি সহিংসতা কেবল একটি আইনি সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। সমাজ থেকে এই অন্ধকার দূর করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন তৃণমূল পর্যায় থেকে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী নারীরা যাতে দ্রুত আইনি সহায়তা পেতে পারেন, সেজন্য সরকারি হেল্পলাইন নম্বর—১০৯, ৯৯৯ এবং ১০৯৮-এর প্রচার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। একইসঙ্গে তিনি ভুক্তভোগীদের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
ব্র্যাক জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক উর্মি ভাদুড়ীর সঞ্চালনায় এবং ব্র্যাক ডিস্ট্রিক্ট কোর্ডিনেটর জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ডায়ালগটিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান ,সাব ইন্সপেক্টর রাশিদা আক্তারসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
ছবি: সংগৃহীত
স্মার্ট কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন অব নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রোগ্রামের আওতায় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষক, উদ্যোক্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোছা. হোমায়রা মণ্ডলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আতিক আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারুক আহমেদ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুন কুমার মণ্ডল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ এবং জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকিব আবেদীন।
এসময় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি দেশের কৃষিকে আধুনিক ও টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ। তারা জানান, পার্টনার ফিল্ড স্কুলের (পিএফএস) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা কৃষির আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখছে।
শেষে আরেকটি অনুষ্ঠানে জাতীয় ফল মেলা উপলক্ষে ফল বাগান সৃজনে বিশেষ ভুমিকা রাখায় উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এরপর ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি পূর্ণবাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রোপা আমনের বীজ, মরিচ বীজ, ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা এবং বিনামূল্যে সার বিতরণ করা হয়। এর আগে ফল মেলা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও অন্যান্য অতিথিরা।
ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ে এখনো বড় পরিসরে দুগ্ধ শিল্প গড়ে না উঠলেও স্থানীয় পর্যায়ে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার উৎপাদনে পিছিয়ে নেই এ জেলা। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পুরুষের পাশাপাশি দুগ্ধ খামার গড়ে তুলছে নারীরা। গবাদিপশু পালনে পারদর্শী হাজারো নারী-পুরুষ-যুবক। গ্রামীন অর্থনীতিকে মজবুত করতে প্রস্তুত তারা। প্রয়োজন শুধু সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিত বিনিয়োগ আর দুধের নিশ্চিত বাজার।
একসময় দেশের গম উৎপাদনের শীর্ষ জেলা ছিলো ঠাকুরগাঁও। কিন্তু সময় বদলেছে। গমের মাঠ এখন দখল করেছে ভুট্টা। ভুট্টা মানেই সহজ পশুখাদ্য। ঘাস ও খড়ের পাশাপাশি ভুট্টা থেকে উৎপাদিত সাইলেজ গরু পালন আরও সহজ করে তুলছে।
জেলার গ্রামগুলোতে এখন বাড়ছে ছোট-বড় গরুর খামার। অনেক পরিবার কৃষির পাশাপাশি বেছে নিচ্ছে দুগ্ধ খামারকে। বিশেষ করে গ্রামের নারীরা হয়ে উঠছেন এই পরিবর্তনের মূল শক্তি।
গৃহস্থালির কাজ সামলিয়ে, গরু পালন করে, দুধ উৎপাদনে ভূমিকা রাখছে নারীরা। সেই দুধ পরিবারের প্রধানগণ বাজারে বিক্রি করতে আনেন। কিন্তু এত শ্রমের বিনিময়ে উৎপাদিত দুধের বাজার না পাওয়ায় হতাশ হন দুধ উৎপাদন কারীরা। কখনো কখনো দুধ অবিক্রিত থেকে যায়।
সদর উপজেলার আকচা মুন্সিপাড়া গ্রামের নারী খামারি ও উদ্যোক্তা মাসুমা আক্তার বলেন, ছোট পরিসরে শুরু করেছিলাম গবাদি পশুর খামার। এখন ৭ টি গরু আছে। ভালো দুধ উৎপাদন করি। কিন্তু দুধ কখনো বিক্রি হয় কখনো হয়না। আমাদের এখানে ভালো কারখানা হলে আমরা দুধ দিতে পারবো।
খামারি রফবকুল ইসলাম বলেন, এত এত শ্রম দিয়ে দুধ পানির দামে বিক্রি করতে হয়। আমাদের এখানে এমন একটি কারখানা বা কোম্পানি নেই যারা ন্যায্য মূল্যে আমাদের থেকে দুধ নিবে।
শুধু তরল দুধ নয়—ঠাকুরগাঁওয়ে দক্ষ নারী ও পুরুষ কারিগর রয়েছে। যারা দুধ থেকে তৈরি করছে পনির, চিজ, ঘি, দই, মিষ্টিসহ নানা ধরনের খাবার। ছোট পরিসরে স্থানীয়ভাবে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় জেলাতে দুগ্ধজাত খাবারের অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই জেলায় দুগ্ধজাত খাবারের সম্ভাবনাকে আরাও তরান্বিত করতে বিনিয়োগ বাড়ালে এ অঞ্চলে খুলতে পারে নতুন অর্থনীতির সমৃদ্ধির দার।
খামারিদের প্রত্যাশা ঠাকুরগাঁওয়ে যেহেতু বড় পরিসরে খাদ্য পক্রিয়াজাত করণ শিল্পনগরীর জন্য ইতিমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ করছে সরকার। নিশ্চয় দেশের বড় বড় বিনিয়োগকারীরা কারখানা নির্মানে এখানে বিনিয়োগ করবে, জেলাতে উন্নতমানের দুগ্ধজাত খাবারের কারখানা তৈরি হবে খামারি আরও বাড়বে। নারীরা আরও গরুপালনে উৎসাহী হবে। বেকারত্ব কমে আসবে।
জেলার জেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, ঠাকুরগাঁও, ডা: ইজহার আহমেদ খান বলেন, কৃষি প্রধান জেলা হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে গাভী পালনে সহজে করা যায় এবং প্রচুর দুধ উৎপাদন হয়। এ জেলায় নিবন্ধিত অনিবন্ধিত প্রায় তিন হাজার খামার রয়েছে। যা থেকে প্রতিমাসে ৬০ হাজার মে:টন দুধ উৎপাদন হয়। দুগ্ধজাত খাবার উৎপাদনের জন্য এখানে কারখানা গড়ে উঠার ব্যপক সম্ভাবনা দেখছেন এই প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা।
উন্নত জাতের গাভী, সহজ ঋণ এবং দুধের বাজার সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে নতুন অর্থনীতির দুয়ার খুলতে পারে এই জেলা। ধান-গম ও ভুট্টার পরে যেন এবার সাদা বিপ্লবের প্রতিক্ষায় উত্তর জনপদের এ অঞ্চল।
ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁয় তিনদিন ব্যাপী জাতীয় ফল ও আম মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চত্বরে মেলায় প্রায় ১০টি স্টলে শতাধিক বিভিন্ন জাতের ফল প্রদর্শন করা হয়।
পরে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সম্মেলন কক্ষে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমানের সভাপতিত্ব করেন।
এসময় সিভিল সার্জন ডা: আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) খলিলুর রহমান, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) রেজাউল করিম, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মেহেদুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা, জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার বিষ্ণু পদ সাহাসহ কৃষি অফিসের কর্মকর্তাসহ কৃষক ও কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, এ মেলার উদ্দেশ্য হলো দেশীয় ফল সবার কাছে পরিচিত করা এবং পাশাপাশি উন্নত জাতের ফল চাষাবাদে কৃষকরা উপকৃত হবে। মেলায় হর্টিকালচার থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন ফলের চারা ও আচার প্রদর্শন করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বর্তমান সরকার সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি করবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলার ইছাপুরা ও নগরপাড়া বালু সেতু পরিদর্শন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, কায়েতপাড়া ও নগরপাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এই সেতু।
একটি মহল এই সেতুর কাজটি বন্ধ করে রেখেছেন যাতে করে রূপগঞ্জের উন্নয়ন না হয়। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার । তিনি চান সারা বাংলাদেশের যেন উন্নয়ন হয়। সেজন্য এই এলাকায় আসা আমাদের। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিন ধরে দাবি এই ব্রিজটি কাজ সম্পন্ন করা।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে, নারায়ণগঞ্জ ১ রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু বলেন, সেতু দুটি চালু হলে এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, কমবে সময় ও ব্যয়। পাশাপাশি কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এবং ঢাকা থেকে রূপগঞ্জে আমরা অল্প সময়ে আসতে পারবো। এখন ঢাকা থেকে সিলেট যাবে এই নগরপাড়ার সেতু ব্যবহার করে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম জয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, এড গোলজার হোসেন, মামুন মিয়া, ফরিদ াহমেদ যুবরাজ, আওলাদ, শিপলু জাহানসহ আরো অনেকে।
পরে প্রতিমন্ত্রীসহ অতিথিবৃন্দ তারাবো পৌর অডিটোরিয়ামে উপকার ভোগীদের মাঝে ভ্যান ও ছাগল বিতরণ করেন।
মন্তব্য